বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে হেরে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকা!

0

south

 

এই নিয়ে চার বার! চতুর্থবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা পা রেখেছিল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে। কিন্তু একবারও ফাইনাল খেলা হলো না তাদের। ১৯৯২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রশ্নবিদ্ধ ‘বৃষ্টি আইন’ তাদের সামনে এনে দিয়েছিল ১ বলে ২২ রানের অসম্ভব এক লক্ষ্য। স্বাভাবিকভাবেই সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল তারা। ১৯৯৯-এ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচটি ‘টাই’ হলেও নেট রান রেট ফাইনাল বঞ্চিত করেছিল সে সময়কার সেরা দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

 

২০০৭ বিশ্বকাপেও দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনাল খেলার স্বপ্ন ‘ভঙ্গ’ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার হাতেই। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ডের সেমিফাইনালটি এক দিক থেকে ছিল দারুণ উপভোগ্য। দুটি দলই লড়াই করেছে সমানে সমান। কিন্তু সুযোগের পাল্লাটা কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার দিকেই একটু বেশি ঝুঁকে ছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে বাজে ফিল্ডিংয়ের ব্যাপারটা তো মেনে নিচ্ছেন স্বয়ং অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা স্পিনার, সাবেক ক্রিকেটার প্যাট সিমকক্স মনে করেন, ভিলিয়ার্সরা খেলাটা অর্ধেক হেরে গিয়েছিল ম্যাচ শুরু হওয়ার অন্যতম সেরা সাবেক স্পিনার প্যাট সিমকক্স বলছেন তা ম্যাচটি অর্ধেক হেরে গিয়েছে খেলা শুরু হওয়ার আগেই!

 

এমন মন্তব্য খানিকটা বিস্ফোরকই বটে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন একাদশ নির্বাচনে প্রোটিয়াদের ভুলের কথা। চলতি আসরে দুর্দান্ত খেলে আসা বোলার কাইল অ্যাবোটকে এই ম্যাচে বসিয়ে রাখা হয়। তাঁর বদলে নেওয়া হয় ভারনন ফিল্যান্ডারকে। অথচ, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার আগের আটটি ম্যাচের একটিতেও খেলতে পারেননি তিনি। কাল ৮ ওভারের স্পেলে ৫২ রান দিলেও, নিতে পারেননি একটি উইকেটও। দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় একটি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হতাশ সিমকক্স নির্বাচকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘যেখানে দলে দারুণ ফর্মে থাকা একজন বোলার আছে, সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁকে বসিয়ে দেওয়াটা “দুঃসাহসী” সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ বোঝাই যাচ্ছে নির্বাচকদের এই ‘দুঃসাহসে’ বেজায় চটেছেন তিনি।

 

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ অবশ্য কথা বলেছেন বাজে ফিল্ডিং নিয়ে। আইসিসি ওয়েবসাইটের একটি লেখায় তিনি বলেন, ‘প্রোটিয়াদের সামনে আসা অর্ধেক সুযোগই তারা হাতছাড়া করেছে। ম্যাচের ফলে নিয়ামক ভূমিকা রেখেছে ওগুলোই।’ বোলিং আক্রমণের প্রথম দিকেই ম্যাককালামকে বাজে লাইনে বল করারও কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ খুঁজে পাননি তিনি। ম্যাককালামকে ‘উসকে’ দিতে সেই বল গুলোই বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ব্রেন্ডন ম্যাককালামেরই ওই ঝোড়ো ইনিংসটিই ম্যাচের গতিপথ নিউজিল্যান্ডের দিকে নিয়ে গেছে।

এই বিশ্বকাপেই প্রোটিয়ারা কয়েকবার প্রমাণ করতে চেয়েছে তারা ‘চোকার’ নয়। গত কালের ম্যাচে পরাজয়ে আবার সেই আলোচনা আবার সামনে চলে আসবে। তবে দুঃখের বিষয় সেই আলোচনার জবাব দিতে তাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও চারটি বছর! তথ্যসূত্র: এএফপি

Comments

comments

Menu

Koreabashi