বিশ্বকাপ শেষ আল আমিনের

0

z1আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় মিলেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ১ পয়েন্ট। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় আর এর আগে-পরে একটি অঘটনই বাংলাদেশকে তুলে দিতে পারে কোয়ার্টার ফাইনালে। এই সমীকরণে যখন সুখের হাওয়া বয়ে যাওয়ার কথা, তখনই উল্টো ‘অঘটনে’ টালমাটাল বাংলাদেশ দল। পেস বোলার আল আমিনকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশে।
কাল বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রিসবেন ছেড়ে আকাশপথে আড়াই ঘণ্টার দূরত্বের মেলবোর্নে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। আল আমিনও দলের সঙ্গে হোটেলে উঠেছেন। তবে সেখানে দু-এক দিনের বেশি থাকার কথা নয়। কারণ তাঁর বিশ্বকাপ শেষ। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ব্রিসবেনেই নেওয়া হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, ‘আল আমিন ১৯ তারিখ রাতে ব্রিসবেনে টিম ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরে হোটেলের বাইরে ছিল। যা দলের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শৃঙ্খলার ব্যাপারে কোনো রকম আপস না করার নীতিতে বিশ্বাসী। এ কারণেই আল আমিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও আল আমিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ হিসেবে ‘দলের আচরণবিধি’ ভঙ্গ করার কথা বলা হয়েছে। আল আমিনের বিকল্প হিসেবে আরেক পেসার শফিউল ইসলামকে চেয়ে আইসিসির কাছে আবেদনও করা হয়েছে এরই মধ্যে।
১৯ তারিখ রাতে ব্রিসবেনের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সেখান থেকে ফিরে আল আমিন রাত পৌনে ১১টার দিকে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। ফিরে আসেন রাত ১২টার দিকে। এই বিশ্বকাপে টিম হোটেলের লবিতে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) লোকজন খেলোয়াড়, হোটেলের অন্য বোর্ডার এবং দর্শনার্থীদের ওপর কড়া নজর রাখছে। জানা গেছে, আল আমিনের হোটেল থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও হোটেলের সামনে কারও তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার কথা আকসুই বাংলাদেশ দলের ম্যানেজারকে জানায়। এর আগে জানতে চায়, বাংলাদেশ দলের কোনো আচরণবিধি আছে কি না। খালেদ মাহমুদ জানান, অবশ্যই আছে এবং সেই আচরণবিধি অনুযায়ী ম্যানেজারের অনুমতি না নিয়ে রাত ১০টার পর হোটেলের বাইরে যাওয়া বা হোটেলের বাইরে থাকা নিষেধ। আল আমিন তাঁকে জানিয়ে বাইরে যাননি।
একটি সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজার ও দলের খেলোয়াড়েরা আল আমিনকে এত রাতে হোটেলের বাইরে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। পরদিন গ্যাবায় ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশের টিম মিটিংয়েও এ নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু একবার আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো? ডোপ টেস্টে শেন ওয়ার্নের পজিটিভ হওয়ার খবর এসেছিল ২০০৩ বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে। বিশ্বকাপ থেকে তাই বহিষ্কৃত হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার। এর বাইরে বিশ্বকাপ থেকে অক্রিকেটীয় কারণে কাউকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা মনে করা যাচ্ছে না।

z2এর কারণ সন্ধান করতে খোঁজখবর করে বিভিন্ন সূত্রে যা জানা গেছে, তাতে আল আমিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে আরও ঘটনা আছে। যেটির শুরু ক্যানবেরায়। সেখানে আকসুর কর্মকর্তারা বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে জানান, বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়ের ব্যাপারে তাঁদের সন্দেহ আছে, তাঁকে তাই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান। সেই খেলোয়াড়ের নাম আল আমিন জানার পর টিম ম্যানেজমেন্ট একটু বিস্মিতই হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আকসু কর্মকর্তারা আল আমিনকে একটি নাম বলে জানতে চান, এই নামে তিনি কাউকে চেনেন কি না। পরে তাঁকে একজনের ছবিও দেখানো হয়। যা দেখে আল আমিন জানান, এই লোকটির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তবে আগে তাঁর লম্বা চুল-দাড়ি ছিল। গত অক্টোবরে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে ফেরার সময় চেন্নাই বিমানবন্দরে লোকটি আল আমিনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁর বোলিং খুব ভালো লাগে বলে জানান। পরে আল আমিনের ফোন নম্বর ও ফেসবুক আইডিও চায়। আল আমিন তা দেননি বলে দাবি করেছেন। ক্যানবেরায় সন্দেহজনক কিছু ঘটে না থাকলে চার মাস আগে চেন্নাইয়ে কারও সঙ্গে পরিচয়ের ব্যাপারে আকসু কেন আল আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, যে কারও মনেই এই প্রশ্নটা জাগতে বাধ্য।
ক্যানবেরা থেকে বাংলাদেশ দল ব্রিসবেনে যাওয়ার দিন রাতেই আল আমিনের রাত করে একা হোটেলের বাইরে যাওয়া ও প্রায় মাঝরাতে ফিরে আসার ঘটনা ঘটে। আকসুর মাধ্যমে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট হয়ে সেটি জানার পর বিশ্বকাপ দেখতে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান ও কয়েকজন বোর্ড পরিচালক সভায় বসে আল আমিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। সূত্র আরও জানিয়েছে, আকসুর তদন্তের ব্যাপারটা জানার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সিনিয়র খেলোয়াড়েরা আল আমিনকে জরিমানা-টরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া যায় কি না ভেবে দেখতে অনুরোধ করেছিলেন বোর্ড কর্মকর্তাদের। পুরো ঘটনা শোনার পর অবশ্য তাঁরা একটু হতবাকই হয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে আল আমিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের পেছনে আকসুর দেওয়া তথ্য ও তদন্তের কোনো ভূমিকা আছে কি না জানতে চাইলে টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
ব্রিসবেনে আইসিসির বিশ্বকাপ হোটেল সোফিটেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাত থেকেই বিসিবি পরিচালকদের আনাগোনা খুব চোখে পড়ছিল। গত পরশু রাতে হোটেলের লবিতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আনাম ও বোর্ডের অন্যতম পরিচালক জালাল ইউনুসকে গভীর আলোচনায় মগ্ন দেখা গেছে। আলোচনাটা কী নিয়ে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে এখন বোধ হয় তা অনুমান করাই যায়।

Comments

comments

Menu

Koreabashi