দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক আকর্ষণ জিয়ংবকগাং প্যালেস, সিওল

0

গাইয়েওঙ্গবোকগাঙ্গ প্যলেস জোসেওন রাজবংশের প্রথম রাজকীয় দূর্গ ছিল

 

যখন রাজা তায়িজো)ই সিয়ং-জি) জোসিওন রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত করেন, নতুন রাজবংশের রাজধানী গেসিয়ং থেকে সিওলে স্থানান্তরিত করা হয় এবং সিওলের কেন্দ্রে জিয়ংবকগাং প্রাসাদ নির্মিত হয়। জ্যোতিষীগণ ভবিষ্যৎবাণী করে বলেন যে এই প্রাসাদ নির্মাণের জন্য সিওল হল শুভস্থান। “গুয়াংহামুন গেট ”নামক প্রধান অনুপ্রবেশের সামনের এলাকা থেকে এই প্রাসাদ কিছু বিশিষ্ট সরকারী দপ্তরের আবাসস্থল।এই প্রবেশদ্বার তিনটি খিলানের উপর দুটি আচ্ছাদিত বৃহৎ তাবু দ্বারা স্থাপিত হয়েছে। এই প্রাসাদের পূর্ব ও পশ্চিম দ্বার রয়েছে যা প্রবেশের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

1592 থেকে 1598 পর্যন্ত হিদেয়োসি আক্রমণের সময় এই প্রাসাদ বিশালভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।273 বছর ধরে এটি একটি নির্জন স্থান হয়ে রয়েছিল।1867 সালে রাজকুমার হিয়ানসিওনের আদেশে এই প্রাসাদের পুনঃ সংস্কার করা হয়।40 হেক্টর এলাকা জুড়ে প্রায় 500টি ভবন নির্মাণ করা হয়।জোসিওন রাজদরবারের স্থাপত্য শৈলী প্রাচীন চীন শিল্পকলার সঙ্গে মিশ্রিত।এই প্রাসাদের পুনঃসংস্কার 1990 সাল থেকে কার্যকরী হয়।

 

এই প্রাসাদের মূল ভবন গিয়ানজিয়ংজিয়ন নামে পরিচিত। এই স্থানে অভিষেক ক্রিয়া সঞ্চালিত হত এবং বিদেশী দূতদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হত।এছাড়াও এটি সিংহাসন কক্ষ হিসাবেও অভিহিত ছিল। বাম দিকে স্থাপিত ব্রোঞ্জের ধূপদানির মধ্যে ধূপকাঠি জ্বালানো হত এবং ডানদিক আনুষ্ঠানিক কাজকর্মে রাজার উপস্থিতি নির্দেশ করত।

 

কার্যালয় আবাস ওরফে গ্যাংনিয়ংজিয়ন কক্ষ চীনা ক্লাসিক অধ্যয়ন এবং রাষ্ট্র বিষয়ক আলোচনা করার জন্য রাজা ব্যবহার করতেন। এটি এছাড়াও রাজার নিদ্রাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হত। গিওতায়েজিওন কক্ষ বা রানীর আবাসে তিনবার আগুন লাগে।বর্তমান কক্ষটি 1995 সালে নির্মিত হয়েছিল। জাগিইয়ংজিয়ন কক্ষ রাজা গোজোং-এর দত্তক মা ডোভগার জো (রানী সিনজিয়ং)-র বাসভবন যা বাসকারী আবাসের পূর্বে অবস্থিত।

 

জিয়ংঘোয়েরু প্যাভিলিয়ন এই রাজসভার একটি রত্ন।পুকুরের উপর অবস্থিত জিয়ংঘোয়েরু প্যাভিলিয়ন বিশেষভাবে বিদেশী দূতদের জন্যে আয়োজিত রাজাদের অনুষ্ঠানের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হত। দোংগাং, ক্রাউন প্রিন্স কম্পাউন্ড, তায়েওনজিয়ন মঠ, গিয়নচিয়ংগাং বাসভবন, হ্যাংওনজিয়ং পুকুর এবং হ্যাংওনজিয়ং প্যাভিলিয়ন, পারুজিয়ং কক্ষ, জিবকজায়ে কক্ষ, হেপগিলদাং কক্ষ, ন্যাশানাল মিউজিয়াম অফ কোরিয়া এবং ন্যাশানাল ফোক মিউজিয়াম- জিয়ংবকগাং প্রাসাদের কিছু অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

 

এই প্রাসাদ অত্যন্ত বিশাল হওয়ায় এই প্রাসাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হল এই প্রাসাদের একটি অডিও সফর। এখানে বিনামূল্যে নির্দেশিত ট্যুর এবং বিদেশী ভাষায় অডিও ট্যুর উপলব্ধ।

 

প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে সময়সীমা দেখুন

জিয়ংবকগাং প্যালেস সম্পর্কিত তথ্যাবলী –

  • এই প্রাসাদ 1395 সালে নির্মিত হয়।
  • জিয়ংবকগাং প্যালেস শব্দটির অর্থ হল “এই প্রাসাদ স্বর্গের আশীর্বাদপ্রাপ্ত”।

জিয়ংবকগাং প্রাসাদের অবস্থান –

দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্য সিওলের জঙ্গো জেলায় অবস্থিত জিয়ংবকগাং প্রাসাদ ইনচেওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্বারা 2 ঘন্টার এবং বাস দ্বারা 6 মিনিট, বা পাতাল রেল দ্বারা 1 ঘন্টা এবং 33 মিনিটে প্রবেশযোগ্য।

ঠিকানা: 161 সাজিক-রো , জোঙ্গো-গু, সিওল, দক্ষিণ কোরিয়া

জিয়ংবকগাং প্রাসাদ পরিদর্শনের সেরা সময় –

গোধূলির আগে এই প্রাসাদ সুন্দর দেখায়।

জিয়ংবকগাং প্রাসাদ খোলার সময়সীমা –

জিয়ংবকগাং প্রাসাদ মঙ্গলবার ছাড়া সব দিন সকাল 9:00টা থেকে বিকাল 6.00টা পর্যন্ত খোলা থাকে।জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্রাসাদ বিকাল 6:30টায় বন্ধ হয়ে যায়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এই প্রাসাদ বিকাল 5:00টায় বন্ধ হয়ে যায়।

জিয়ংবকগাং প্রাসাদের প্রবেশ মূল্য –

19 বছর বয়সের ঊর্ধ্বে, প্রবেশ মূল্য হল 3,000 ওয়ান এবং 7 ও 18বছর বয়সের শিশুদের জন্য টিকিটের মূল্য হল 1,500 ওয়ান

জিয়ংবকগাং প্রাসাদ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যাবলী –

জিয়ংবকগাং প্রাসাদের স্থানাঙ্ক কি?

37.5786 ° N, 126.9772 ° E

 

সিওলের বিখ্যাত আকর্ষণ কোনগুলি ?

মিয়ং -দং, লটে ওয়ার্ল্ড, যোগ্যেসা, 63 বিল্ডিং, কোয়েক্স মল, মিয়ংদং ক্যাথিড্রাল এবং সিওদায়েমুন মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রী।

Comments

comments

Comments

comments

Comments

comments

Menu

Koreabashi