নিউইয়র্কে একুশকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান

0

21জাতিসংঘ ও ইউনেসকোর স্বীকৃতি লাভের পর বাঙালির অমর একুশে এবার আমেরিকার নিউইয়র্ক রাজ্যে (স্টেট) রাষ্ট্রীয় মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি এক রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর এন্ড্রু এম কুমো আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি প্রদান করেছেন।
২০১৪ সালে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহা রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি লাভের জন্য নিউইয়র্ক রাজ্যের সিনেটর হোজে পেরাল্টার কাছে প্রস্তাবনাটি পেশ করেন। নিউইয়র্ক রাজ্য সিনেট আলবেনিতে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ প্রস্তাবটি পাস করা হয়। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ পাস হওয়া প্রস্তাবনাটি গেজেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি সনদটি হস্তান্তর করা হয়। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানরত সব বাঙালিকে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে সেদিন উপস্থিত হন।

এদিকে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দুই সপ্তাহব্যাপী একুশের গ্রন্থমেলা শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোস্টন থেকে আগত কবি সাজেদ কামাল বলেন, বই মানুষকে আমৃত্যু প্রেরণা জোগায়। মানুষকে আলোকিত করে। অমর একুশ উপলক্ষে যে বইমেলা হয়ে আসছে দেশে এবং প্রবাসে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

 সাজেদ কামাল আরও বলেন, ‘বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে মুক্তধারা বহির্বিশ্বে একনাগাড়ে ২৫ বছর কাজ করছে। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের সামনে শহীদ দিবস পালনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিকবলয়ে একুশকে তুলে ধরে। আর এ বছর মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবনায় নিউইয়র্কের গভর্নর কুমো নিউইয়র্ক রাজ্যে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে। এটা খুব বড় একটা বিষয়। আমি ১৯৯১ সালে উডসাইডের একটি বাসা থেকে বই নিতে এসে মুক্তধারার সঙ্গে পরিচিত হই। আজ মুক্তধারা যে কাজ করছে আমরা সবাই তা থেকে উপকৃত হচ্ছি। এ জন্য মুক্তধারাকে ধন্যবাদ।’

এর আগে সাজেদ কামাল ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লেখক কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, নাসিমুন নাহার নিনি, ফাহিম রেজা নূর, মুরাদ আকাশ, গোপাল সান্যালসহ অনেক সংস্কৃতিকর্মী, কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন। অমর একুশের গ্রন্থমেলায় বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত প্রায় ৪০টি নতুন বই প্রথম দিন প্রদর্শিত হয়। মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ​ সাহা অমর একুশে গ্রন্থমেলার পূর্বাপর উল্লেখ করে এ বছর প্রকাশিত ৪০টি গ্রন্থ মেলায় স্থান পেয়েছে বলে জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ‘একুশ ও নতুন বই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্পাদক-লেখক ফাহিম রেজা নূরের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন লেখক-কলামিস্ট হাসান ফেরদৌস, সাংবাদিক-লেখক দর্পণ কবীর।

 দর্পণ কবির বলেন, ‘নানান প্রতিকূলতার মধ্যে মুক্তধারার এ প্রচেষ্টা উল্লেখ করার মতো। তাই আমি সব সময় এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।’
হাসান ফেরদৌস বলেন, বই বের হওয়া এখন খুব সহজ। লেখার মতো জায়গা এখন হয়েছে। কোনো কিছু প্রকাশ করা এখন কোনো বিষয়ই নয়। কিন্তু একটি বিষয় লেখকদের সচেতন থাকা দরকার। তাহলো তিনি যা লিখছেন সেটি গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশের যোগ্য কি না। সেটা নিয়ে ভাবা। তিনি বলেন, অনেক লেখার পর নিজেকে তৈরি করেই গ্রন্থ প্রকাশের বিষয়ে ভাবা উচিত। হাসান ফেরদৌস বলেন, ‘উত্তর আমেরিকায় বিশ্বজিৎ সাহা ও মুক্তধারা যে কাজ করছে, আসুন আমরা সবাই মিলে তাঁকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাই।’

 উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মুক্তধারা নিউইয়র্ক ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির সূচনালগ্নে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। ১৯৯২ সালে অমর একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে জাতিসংঘ ও ইউনেসকোর স্বীকৃতি অর্জনেও এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

Comments

comments

Menu

Koreabashi