কোরিয়ান কোচদের শ্যুটিং পাঠশালা

0
c1

কোরিয়ান কোচ লি জংয়ের কথা গভীর মনোযোগে শুনছেন তরুণ শ্যুটাররা। কোচের মনোযোগী শ্রোতা সহকারী মিন্টু, রিংকি এবং মহিলা কোচ সো মিও (মাঝে)। কাল গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে l প্রথম আলো

পুরো ভবনের দেয়ালজুড়ে জোনাকিবাতির সজ্জা। রংবেরঙের পোশাকে চলছে অতিথিদের আনাগোনা। ভবনটা গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্স নাকি বিয়েবাড়ি—অপরিচিতদের জন্য তা একটা গোলকধাঁধাই বটে! ৫০ মিটারের রেঞ্জের মধ্যেও চলছে শামিয়ানা টানানোর প্রস্তুতি। শ্রমিকদের তাড়াহুড়া দেখেই বোঝা গেল কতটা ব্যস্ত তাঁরা।

দোতলায় নিজের কক্ষে ব্যস্ত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ। সামনে বসা দুই কোরীয় কোচ লি জং ও কাল সো মি। প্রায় আধা ঘণ্টার আলোচনা সেরে দুজনই ছুটলেন চারতলায়। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের অনুশীলনকক্ষে কোচের অপেক্ষায় তখনো দাঁড়িয়ে আবদুল্লাহ হেল বাকি, শারমিন আক্তার রত্নারা। এবারই প্রথম দুই বিদেশি কোচ পেলেন শ্যুটাররা। এঁদের সহযোগিতা করতে সহকারী আছেন স্থানীয় চারজন।
মূলত আগামী বছরের রিও অলিম্পিককে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে ফেডারেশন। তবে প্রতিবারের মতো আন্তর্জাতিক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষ সুযোগে পাওয়া ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ নিয়ে অলিম্পিকে যেতে আগ্রহী নন কর্মকর্তারা। সরাসরি ‘কোটা প্লেস’ নিয়েই মাথা উঁচু করে অলিম্পিকে খেলার লক্ষ্য ফেডারেশনের। অলিম্পিক ছাড়াও এশিয়ান গ্রাঁ প্রি, বিশ্বকাপ, ইন্দো-বাংলা গেমস, এসএ গেমসের জন্য চলবে অনুশীলন। এ ছাড়া নবীন শ্যুটারদের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২০ সালের অলিম্পিক। আপাতত ফেডারেশনের সঙ্গে তিন মাসের চুক্তি কোচদের। আবাসন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বাদে লির মাসিক বেতন চার হাজার ডলার, সো মির তিন হাজার। পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে চুক্তির মেয়াদ বাড়তেও পারে।

লি আগেও কাজ করেছেন। তাঁর জন্য কাজটা যথেষ্ট সহজই হবে। তার পরও গতানুগতিক কোনো অনুশীলনে আগ্রহী নন তিনি। অনুশীলনে এনেছেন নতুনত্ব। কাল প্রথম দিনেই নিজের উদ্ভাবিত নিয়মগুলো ভালোভাবে বোঝাচ্ছিলেন শ্যুটারদের। মনোযোগী শ্রোতার মতো সেগুলো বুঝে নিচ্ছিলেন বাকি, শারমিন, শোভন, রত্নারা।

নিজের পরিকল্পনার ছকসহ লি নির্দিষ্ট পয়েন্ট ছোঁয়ার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন শ্যুটারদের। তাঁদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য ২০০ পয়েন্ট ভাগ করা হয়েছে এভাবে—ভ্যালুয়েশন ফ্রিকোয়েন্সিতে ১০০, শ্যুটিং মেজারমেন্টে ৮০, উপস্থিতিতে ১০ ও শারীরিক অনুশীলনের উপস্থিতিতে ১০ পয়েন্ট। এয়ার রাইফেলে একজন পুরুষ শ্যুটার ৯৬ পয়েন্ট পেলেই মাসিক বৃত্তি পাবেন, মহিলাদের জন্য সেটা ৯৫ পয়েন্ট। এপ্রিলে কোরিয়ায় বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবেন বাকি, অন্যজন যাবেন ক্যাম্পের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।

নিজের অনুশীলন তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিলেন লি, ‘রিও অলিম্পিকে কোটা প্লেসের মাধ্যমে খেলতে চাই আমরা। এ জন্যই এমন কঠোর অনুশীলনের পরিকল্পনা।’ মহিলা কোচ সো মি নবীনদের নিয়ে কিছুই বলতে চাইলেন না, ‘সবে তো এলাম। আগে এঁদের সঙ্গে কাজ করি।’ ১৯৯২ বার্সেলোনা অলিম্পিকে কোরিয়ার সোনাজয়ী দলের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন সো মি। সেই অভিজ্ঞতাই এখানে কাজে লাগাতে চান তিনি।
শ্যুটিংয়ে আবারও সোনালি দিনের স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ সম্পাদক ইন্তেখাবুল হামিদ, ‘আমাদের শ্যুটাররা আবারও গর্ব করার মতো সাফল্য আনবে বলে আমাদের আশা। এ জন্যই দীর্ঘমেয়াদি এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।’

Comments

comments

Menu

Koreabashi