কিম জং-উনের নৃশংসতা

0

KIM1436415481

 

কিম জং-উনের নৃশংসতা নিয়ে মিডিয়ায় ছড়িয়ে আছে অনেক খবর। সে খবরে এবার যোগ হলো আরেকটি নৃশংসতার গল্প। কিমের এই নৃশংসতার খবরে আরো একবার কেঁপে উঠল কোরিয়ানদের বুক। এবার তিনি প্রিয় কচ্ছপের শোকে গুলি করে ঝাঁঝরা করেছেন ম্যানেজারকে।

 

নৃশংসতার নজির সৃষ্টিতে জুড়ি নেই কিমের। অভিযোগ আছে- নিজের কাকাকেও কুকুর লেলিয়ে খুন করে নৃশংসতার নজির রয়েছে তার। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডে চড়িয়েছেন সামান্য অপরাধে। প্রত্যাশা পূরণ না করার অপরাধে মেরে ফেলার ফতোয়া তো তার কাছে কিছুই নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব বলছে, কিমের রোষানলে পড়ে প্রায় ৭০ জন সরকারি কর্মীর প্রাণ গেছে গত দুই বছরে।            

 

উত্তর কোরিয়ার সেই একনায়ক কিম জং-উনের বিরুদ্ধে এবার খামারের ম্যানেজারকে হত্যার খবর দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার মিডিয়া। টেরাপিনের যত্ন ঠিকমতো না হওয়াই অপরাধ এই খামার ম্যানেজারের। টেরাপিন হচ্ছে কচ্ছপের একটি বিশেষ প্রজাতি। গত মে মাসের মাঝামাঝি তিয়াডংগং টেরাপিন খামার ঘুরে দেখতে গিয়েছিলেন কিম। বাবার ইচ্ছেতে কয়েক বছর আগে তিনিই তৈরি করেন ওই খামারটি। শাসককে নিজেদের কীর্তি ঘুরিয়ে দেখাতে নিজেই এগিয়ে এসেছিলেন সেখানকার অধিকর্তা। কিন্তু বিপত্তি বাধে কিছুক্ষণ পরেই।

 

খামারে প্রিয় টেরাপিনদের দেখে মুখে হাসি ফোটেনি কিম জংয়ের। বরং খাবার না পেয়ে কয়েকটি ছোট কচ্ছপ মারা গেছে শুনেই মেজাজ হারান তিনি। অধিকর্তা বোঝানোর চেষ্টা করেন, বিদ্যুৎ-সংযোগ মাঝে মাঝে চলে যায় বলেই খাবার ও পানির জোগানে টান পড়ে। এ অবস্থায় বড় টেরাপিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেও ছোটদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে বেশি। ব্যস হয়ে গেল। মেজাজ চড়ে গেল কিমের। রেগে-মেগে চিৎকার করলেন। শাসকের সেই উত্তেজিত ছবিও বেরোল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে।

 

কিন্তু যে সংবাদটি উত্তর কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি তা হচ্ছে, কিম বেরোনোর পরই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তিয়াডংগং খামারের ম্যানেজারের শরীর। দক্ষিণ কোরিয়ার এক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কেবল বকাঝকাতেই মেটেনি শাসকের রোষ। তারপরই এই কাণ্ড।

 

অবশ্য এ নিয়ে বিশদ কিছু জানারও উপায় নেই। কারণ উত্তর কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে এই খবর ঠাঁই পায় না। আবার দক্ষিণ কোরিয়ার সূত্রে মেলা এসব খবর সত্যি কি না, তা যাচাইয়েরও উপায় থাকে না।

Comments

comments

Comments

comments

Comments

comments

Menu

Koreabashi