ভারতে গীতা প্রতিযোগিতায় জয়ী হলেন ১২ বছরের মুসলিম বালিকা মরিয়ম সিদ্দিকী

0

moriom12

 

ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ১২ বছরের বালিকা মরিয়ম সিদ্দিকী। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সে। ক্লাসে সেরাদের একজনও। সে একজন মুসলিম বালিকা হলেও হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ ভগবত গীতার ওপর তার দখল হিন্দু ছেলেমেয়েদের চেয়েও বেশি!

 

তাইতো গীতার ওপর এক প্রতিযোগতিায় বাঘা বাঘা হিন্দু পণ্ডিতদের ছেলেমেয়েদের পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে মরিয়ম। তিন হাজারেরও বেশি প্রতিযোগীকে হারিয়ে সেরা হয় সে।

 

গীতা চ্যাম্পিয়নস লীগ কনটেস্টে নামের ওই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক সোসাইটি ফর কৃষ্ণা কনসাসনেস (ইস্ককম)।

 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, গীতার ওপর শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের মূল্যায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ১০০ মার্কসের নৈব্যক্তিক প্রশ্নে ওই পরীক্ষা নেওয়া হয়।

 

জয়ী উচ্ছ্বিত মরিয়ম বলে, ‘আমি সর্বদায় বিভিন্ন ধর্মের ওপর জ্ঞান অন্বেষণ করি। সময় পেলেই আমি ধর্মীয় বই পড়ি। যখন আমার শিক্ষক আমাকে এই প্রতিযোগিতার কথা বললেন- তখন আমি মনে করলাম, বিভিন্ন ধর্মের বই যে আমি পড়ি সেটা প্রমাণ করার জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। আর সেই সুযোগ আমি নিলাম।’ ১৫ মার্চ তার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

 

মুম্বাইয়ের মীরা রোডে অবস্থিত কসমোপলিটন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী মরিয়মকে ইংরেজিতে ওই পরীক্ষা বসানোর এক মাস আগে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (ম্যাটেরিয়াল) সরবরাহ করে ইস্ককম।

 

মরিয়ম জানায় ‘আমি তাদের দেওয়া প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়ালগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে পড়েছি এবং গীতা আমাদেরকে কী বলতে চাচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করেছি।  আমি আরো বিভিন্ন ধর্মের অনেক বই পড়েছি। এগুলো পড়ে আমি উপলদ্ধি করতে পেরেছি যে, সব ধর্মেই মানবতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে, যা সবাইকে অনুসরণ করা  উচিত।’

 

শুধু বই পড়েই নয়, বিভিন্ন ধর্মের বিষয়ে মরিয়ম তার বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করত।

 

মরিয়মের বাবা বলেন, ‘আমাদের পরিবার বিশ্বাস করে, সবাইকে সব ধর্মের প্রতি সম্মান এবং সব ধর্মকে গ্রহণ করার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। কোনো ধর্মেই ঘৃণা ও বিদ্বেষ সমর্থন করে না। তবে, এখানে এখনো কিছু লোক আমাদের ভুল পথে পরিচালনা করার চেষ্টা করছে। এর আগে এগুলো আমাদের ছেলেমেয়েদের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলেছে। কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক তা নির্দিষ্ট করার জন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করা প্রয়োজন।’

 

স্কুলের শিক্ষকরাও মরিয়মের কৃতিত্বে বেশ খুশি। তার এক শিক্ষিকা স্বপ্না ব্রহ্মকার বলেন, এই প্রতিযোগিতা সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। যে-কেউ এতে অংশগ্রহণ করতে পারে-এমন নির্দেশনা ছিল। মরিয়ম স্কুলের পরীক্ষা বেশ ভালো করে এবং এই প্রতিযোগিতায়ও একই কৃতিত্ব দেখিয়েছে সে।’

 

তথ্যসূত্র :  টাইমস অব ইন্ডিয়া।

 

Comments

comments

Menu

Koreabashi