ভারতের ‘লজ্জাকর’ পাঁচ ব্যাটিং ধস

0

ব্যাটিং ধস আর ভারতীয় দলের সম্পর্কটা বেশ ‘ঘনিষ্ঠ’ই বটে! নম্বইয়ের দশকের পর থেকে অন্তত এমনটাই দেখা গেছে। বিশেষ করে শচীন টেন্ডুলকার আউট হয়ে গেলেই ভারতীয় সমর্থকরা শঙ্কায় থাকতেন, ‘এই বুঝি ব্যাটিংয়ে ধস নামল’! বুধবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ভারতের বর্তমান দলও তেমনই এক ব্যাটিং ধসের উপাখ্যান রচনা করল। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৩৪৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জোড়া সেঞ্চুরিতে জয়ের আশা জাগিয়েও মাত্র ৪৬ রানে শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে ভারত ম্যাচ হারল ২৫ রানে। নম্বই-পরবর্তী যুগে ওয়ানডেতে ভারতের ‘লজ্জাকর’ পাঁচ ব্যাটিং ধস এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।    

 

এক. /১ থেকে ১২০/!

১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনে সেদিন শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৫২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮ রানেই নভোজৎ সিং সিধুর উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। তবে শচীন টেন্ডুলকার ও সঞ্জয় মাঞ্জেরেকারের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ভারতীয়রা। একপর্যায়ে ১ উইকেটেই ৯৮ রান তুলে ফেলে। কিন্তু তখনই দলের সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার সাজঘরে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ভারতীয় দল। ৯৮/১ থেকে পরিণত হয় ১২০/৮-এ। ২২ রানেই নেই ৭ উইকেট! তখনই ঘটে কলঙ্কিত এক কাণ্ড। কলকাতার দর্শকরা প্রিয় দলের এমন ব্যাটিং ধস মেনে নিতে পারেনি। গ্যালারিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। শুরু হয় তুমুল বোতল নিক্ষেপও। এমন পরিস্থিতিতে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড। ম্যাচে জয়ী ঘোষণা করা হয় শ্রীলঙ্কাকে।

 

দুই. ৫৪ রানে অলআউট!

২০০০ সালে শারজাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলতে নেমেছিল ভারত। প্রতিপক্ষ সেই শ্রীলঙ্কাই। সেদিন সনাৎ জয়াসুরিয়ার ১৬১ বলে ১৮৯ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংসে আগে ব্যাট করে ২৯৯ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ওই সময় ওয়ানডেতে ৩০০ রান তাড়া করে জেতা বিশাল এক চ্যালেঞ্জই বটে। ভারত তো সেদিন চ্যালেঞ্জই নিতে পারেনি। চামিন্দা ভাস প্রথম স্পেলে নিজের পাঁচ ওভারেই তুলে নেন ভারতের চার-চারটি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ভারত অলআউট মাত্র ৫৪ রানে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে জহির খানকে ফিরিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন ভাস। ভারতের ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছিলেন কেবল রবিন সিং (১১)!

 

তিন. ১৫৯/৪ থেকে ১৯৮ অলআউট!

২০০৩ সালে ইডেন গার্ডেনে টিভিসি কাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২৩৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। ৮ রানে বীরেন্দ্রর শেবাগের উইকেট হারালেও শচীন টেন্ডুলকার, ভিসিএস লক্ষ্মণ, রাহুল দ্রাবিড় ও হেমাং বাদানির ব্যাটে ৩৪ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ১৫৯ রান। তখনো ক্রিজে ছিলেন দ্রাবিড় ও বাদানি। কিন্তু পরের ওভারে মাইকেল ক্লার্কের প্রথম বলে বাদানি ফিরে (৩০) ফিরে যাওয়ার পরই ধসে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ। নিজের পরের ওভারে এসে দ্রাবিড়কেও বোল্ড করেন ক্লার্ক। শেষ পর্যন্ত ১৫৯/৪ থেকে ভারত অলআউট ১৯৮ রানে। ৩৯ রানেই নেই শেষ ৬ উইকেট!

 

চার. ২৬৭/১ থেকে ২৯৬ অলআউট!

২০১১ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। নাগপুরে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্তই। বীরেন্দর শেবাগ ও শচীন টেন্ডুলকারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৭.৪ ওভারে ১৪২ রান। শেবাগ ৭৩ রান করে ফিরে গেলেও গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে আরেকটি বড় জুটি গড়ে তোলেন টেন্ডুলকার। ৩৯.২ ওভারে ভারতের সংগ্রহ তখন ১ উইকেটে ২৬৭ রান। ক্রিজে ১০০ বলে ১১১ রান নিয়ে টেন্ডুলকার ও ৬৯ বলে ৬০ রান নিয়ে গৌতম গম্ভীর। এই ওভারেই কেবল ব্যাটিং পাওয়ার প্লে শুরু হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটসম্যান টেন্ডুলকার ও গম্ভীরের সঙ্গে আউট হয়ে যান ইউসুফ পাঠানও। ২৬৭/১ থেকে ভারত অলআউট ২৯৬ রানে। ২৯ রানেই নেই শেষ ৯ উইকেট! ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ একাই ধসিয়ে দেন প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেইন। পরে ২৯৭ রানের লক্ষ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটাও জেতে ৩ উইকেটে।

 

পাঁচ. ২৭৭/১ থেকে ৩২৩ অলআউট!

এটা তো এখনো তাজা স্মৃতিই। অবশ্য ভারতের জন্য দুঃস্মৃতি! বুধবার ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের লক্ষ্য ছিল ৩৪৯ রান। কঠিন লক্ষ্যই বটে। কিন্তু ৩৭.২ ওভারেই ভারত ১ উইকেটে ২৭৭ রান করে ফেলেছিল। দ্বিতীয় উইকেটে তখন ২১২ রানের জুটি। জয়ের জন্য দরকার ৭৬ বলে ৭২ রান, হাতে ৯ উইকেট। ক্রিজে দুই সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ান। ভারতের ম্যাচটা সহজেই জেতার কথা। কিন্তু এরপরই যে দেখা গেল চরম নাটক। ৩৭.৩ থেকে ৩৯.১- ১১ বলেই দুই সেঞ্চুরিয়ানের সঙ্গে আউট হয়ে গেলেন মহেন্দ্র সিং ধোনিও। ভারতও ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ল তখনই। ২৭৭/১ থেকে ৪ বল বাকি থাকতেই ৩২৩ রানে অলআউট ভারত। মাত্র ৪৬ রানেই শেষ ৯ উইকেট হারিয়ে ভারত ম্যাচ হারল ২৫ রানে।

Comments

comments

Menu

Koreabashi