এক নজরে দেখুন ২০১৩ সালের সাউথ কোরিয়ার বৈশাখী মেলা উদযাপন

0

BMela2013

 

২০১২ সালের মতই ২০১৩ সালেও সাউথ কোরিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটির অধীনে বৈশাখী মেলা উদযাপন হয়েছিলো। ২০১৩ সালের ২রা জুন রবিবার সাউথ কোরিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজন করে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলার। যা অনুষ্ঠিত হয় আনসান সিটির Hwarang ন্যাশনাল পার্কে, যেটার মূল দায়িত্বে ছিলো রোটারি আনসান ক্লাব, সাউথ কোরিয়া।

হাজার হাজার বাংলাদেশীদের পদচারণায় উৎসবমুখর এই মেলা দেখলে এমন ধারণা হওয়া অযৌক্তিক নয়। প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে কোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশীরা সকাল থেকেই পার্কে আসা শুরু করে।  দেশী মানুষদের সাথে দেখা হবে, কুশলাদি বিনিময় হবে এইটাই বড় পাওয়া। এমন কথাই ঘুরে ফিরে আসল মেলায় আসা বাংলাদেশীদের মুখে মুখে।

 

LRB

 

২০১৩ এর বৈশাখী মেলার মূল আকর্ষণ ছিলো বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড এল আর বি। মেলায় আইয়ুব বাচ্চুর ও তার ব্যান্ডের গানের মূর্ছনায় গোটা মেলা প্রাঙ্গণ এক খণ্ড বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়াবাসীরা খানিকটা হলেও দেশমাতৃকার স্বাদ পায় এই মেলায় অংশগ্রহণ করে।

সকাল থেকে মেলা শুরু হলেও প্রচন্ড গরমের কারণে অনুষ্টান শুরু করতে একটু দেরী হয়। দুপুর দুইটার পর অনুষ্টান শুরু হয়। প্রথম পর্বে কোরিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শিল্পীরা দর্শকদেরকে মাতিয়ে রাখে।
 
বিকাল চারটায় শুরু হয় “রাখে আল্লাহ মারে কে” গানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর গানের পর্ব। আইয়ুব বাচ্চুর গিটারের সুরে হাজারো দর্শক বিদেশের মাটিতে দেশের গানের আমেজ পাওয়ার চেষ্টা করে। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে লটারী পর্ব শেষ হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ মেলা শেষ হয়।
 

মেলায় পাওয়া না পাওয়া
 
বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রবাসীদের সবচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয় ছিল একসাথে এত বাংলাদেশীদের দেখা পাওয়া। কোরিয়ায় ব্যস্ততার কারণে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে দেখা করা কঠিন। আজ মেলার সৌজন্যে অনেক বন্ধুর সাথে দেখা হল। জানালেন মেলায় খুয়াংজু থেকে আসা জামাল। পাওয়া না পাওয়া নিয়েও জানালেন অনেকেই প্রতিক্রিয়া। হানিয়াং ইউনিভার্সিটি থেকে আসা আবির জানালেন আইয়ুব বাচ্চু আমার ছোটকাল থেকেই অনেক প্রিয়। এত কাছ থেকে প্রিয় শিল্পীর গান শুনে খুব ভাল লাগছে। বিপরীতটাও শোনা গেল অনেকের মুখে। সারাদিন রোদে বসে থেকে আমাদেরকে এত কম গান শুনিয়ে শেষ করে দেওয়ায় মন খারাপ করেছেন অনেকেই।

২০১২ ও ২০১৩ সালের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ২০১৪ সালেও মেলা উদযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে এক ফেরি দুর্ঘটনার কারনে মেলা উদযাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার বাংলাদেশী কমিউনিটি পুনরায় ২০১৫তে বৈশাখী মেলা উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

স্থানঃ আনসান কালচারাল স্কয়ার

ডানউন- গো, আনসানসিটি, দক্ষিণ কোরিয়া

তারিখঃ ২০১৫মে ২৪ (রবিবার)

সময়ঃ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা

 

boishakh-final-banner

 

দক্ষিণ কোরিয়াবাসী বাংলাদেশীরা আবার তৈরি হয়ে যান অসাধারণ কিছু মুহূর্ত উপভোগ করার জন্য। বিদেশে বসে দেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির পালনের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।

Comments

comments

Menu

Koreabashi