বাংলাদেশকে ৩৩৩ রানের টার্গেট দিল শ্রীলঙ্কা

0

Dilshan-1

 

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশকে জয়ের জন্য ৩৩৩ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ১ উইকেটে ৩৩২ রান সংগ্রহ করেছে তারা।

 

শ্রীলঙ্কার হয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিলকারত্নে দিলশান ও কুমার সাঙ্গাকারা। দিলশান ১৬১ ও সাঙ্গাকারা ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন। এ ছাড়া লাহিরু থিরিমান্নের ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। 

 

তবে ম্যাচের দৃশ্যপট এমন নাও হতে পারতো। ইনিংসের শুরু থেকেই সিংহের দলের বিপক্ষে দাপট দেখাতে পারতেন টাইগাররা। কিন্তু সেই সুযোগটি হাতছাড়া হয় বাংলাদেশি ফিল্ডারদের জন্য।

 

রানের খাতা খোলার আগে প্রথম স্লিপে এনামুল হক বিজয়ের হাতে জীবন পান  শ্রীলঙ্কার ওপেনার লাহিরু থিরিমান্নে। মাশরাফির করা প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন। চারবার চেষ্টা করেও ক্যাচটি লুফে নিতে পারেননি বিজয়।

 

Dilshan-2

 

নবম ওভারে থিরিমান্নে দ্বিতীয় জীবন পান। মাশরাফির করা নবম ওভারের পঞ্চম বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন থিরিমান্নে। মুশফিক বাম দিকে ও বিজয় ডান দিকে ঝাঁপিয়েও বল তালুবন্দি করতে পারেননি। দুই ক্রিকেটারকে ফাঁকি দিয়ে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে! সে সময়ে ২২ রানে ব্যাটিং করছিলেন থিরিমান্নে।

 

তৃতীয় জীবনটি পান ব্যক্তিগত ৪৪ রানে। সাব্বির রহমানের করা ২১.৫ ওভারে ক্রিজ থেকে বের হয়ে মারতে চেয়েছিলেন থিরিমান্নে। কিন্তু সাব্বিরের বল থিরিমান্নের ব্যাট মিস করে। উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিম স্ট্যাম্পিংয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।

 

শেষ পর্যন্ত ৫২ রানে শেষ হয় থিরিমান্নের ইনিংস। রুবেলের করা ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে লাহিরু থিরিমান্নে ৫২ রানে সাজঘরে ফেরেন। থার্ডম্যান অঞ্চলে থিরিমান্নের ক্যাচটি লুফে নেন তাসকিন আহমেদ। ৭৮ বলে ৩টি বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান বাঁহাতি এই ওপেনার।

 

দ্বিতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারা ও দিলশান বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের ওপার চড়াও হয়ে উঠেন। দুজনই এ সময়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন।

 

Dilshan-3

 

এই দুই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২১০ রান সংগ্রহ করেন মাত্র ১৫৩ বলে। দিলশানের থেকে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন সাঙ্গাকারা। মূলত বাংলাদেশের বোলারদের এক হাতে শাসন করেন তিনি। নিজের ৪০০তম ম্যাচটিকে সেঞ্চুরি দিয়ে উদযাপন করেন বাঁহাতি টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৪০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন সাঙ্গাকারা।

 

অবশ্য ৬০ রানে পয়েন্টে মুমিনুলের হাতে জীবন পান সাঙ্গাকারা। রুবেলের করা ৪১.১ ওভারে পয়েন্টের উপর দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। তবে ব্যাটের মাঝখানে না লাগায় বল পয়েন্টে থাকা মুমিনুলের হাতে দিয়ে পড়ে। কিন্তু সহজ ক্যাচটি হাতছাড়া করেন মুমিনুল হক।

 

শেষ পর্যন্ত সাঙ্গাকারা ১০৫ ও দিলশান ১৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। দিলশান ১৪৬ বলে ২২ চারে ১৬১ রানের ইনিংসটি খেলেন। আর সাঙ্গাকারা ইনিংসটি সাজান মাত্র ৭৬ বলে। এজন্য ১৩টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এটি সাঙ্গাকারার দ্রুততম সেঞ্চুরি।

 

রুবেল হোসেন ৬২ রান ১ উইকেট নেন। এ ছাড়া অন্য কোনো বোলারই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। তাসকিন আহমেদ ১০ ওভার বোলিং করে ৮২ রান খরচ করেন। মাশরাফি ৫৩, সাকিব ৫৫ ও মাহমুদউল্লাহ ৪৯ রান দিয়েছেন

 

Dilshan-4

 

এদিকে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৩৮ বছরের পুরোনো স্টেডিয়াম মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। লক্ষাধিক আসনের দর্শক ধারণক্ষমতাবিশিষ্ট স্টেডিয়ামটি ১৯৫৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রধান স্টেডিয়াম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

যদিও স্টেডিয়ামটি ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। টেস্ট, ওয়ানডের নানা ইতিহাসের সাক্ষী মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড (এমসিজি)। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্পোর্টস মিউজিয়ামও রয়েছে স্টেডিয়ামের ভেতরে। সব মিলিয়ে এমসিজি এক স্বপ্নরাজ্য। সেই স্বপ্নরাজ্যে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

 

১৫ বছর হলো বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। আর ওয়ানডে খেলছে ১৯৮৬ সাল থেকে। তবে এবারই প্রথম এমসিজিতে পা ফেলার সুযোগ পেয়েছে মাশরাফির দল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট ভেন্যু মেলবোর্ন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্মরণীয় অভিষেকের প্রত্যয় বাংলাদেশের।

 

এর আগে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০৩ বিশ্বকাপে ১০ উইকেটে ও ২০০৭ বিশ্বকাপে ১৯৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে যান টাইগাররা।

 

Comments

comments

Menu

Koreabashi