টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ

0

PM-trophiesh

 

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেওয়ায় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিল বাংলাদেশ। শুক্রবার মিরপুরে প্রায় ৩০ হাজার দর্শকের সামনে পাকিস্তানকে হারাল খুব সহজেই। আগের সাতবারের মুখোমুখিতে কোনোবারই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

কিন্তু বদলে যাওয়া বাংলাদেশের চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেভাবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে, এবার টি-টোয়েন্টিতেও তার দাপট দেখিয়েছে। শুক্রবারের ম্যাচে পাকিস্তান এক মুহূর্তের জন্যও লড়াই করতে পারেনি। কি ব্যাটিং কি বোলিং- দুই বিভাগেই পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ফ্লপ। টসে জিতে কৃত্রিম আলোয় প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে পাকিস্তান। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২২ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে।  

 

১৪২ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে মোহাম্মদ হাফিজের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১৪ রান। কিন্তু ওভারের পঞ্চম বলে রান আউট হতে হয় তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৭ রানের ঝড়-তোলা সৌম্যকে। তামিম ইকবাল ওই ওভারে ২টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান। শুরুতে ঝড় তুললেও বেশি দূর এগোতে পারেনি। ১৪ রানে উমর গুলের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন তামিম। এরপর মুশফিক ১৫ বলে ১৯ রান তুলে নেন।

কিন্তু ওয়াহাব রিয়াজের করা ষষ্ঠ ওভারে কপাল পোড়ে তার। মুশফিকের ব্যাটে লেগে বল স্ট্যাম্পে আঘাত করলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। দ্রুত উইকেট হারালেও বাংলাদেশকে চতুর্থ উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন সাব্বির ও সাকিব। এই দুই ব্যাটসম্যান চতুর্থ উইকেটে ১০৫ রান যোগ করেন মাত্র ৬৪ বলে। সাকিবকে কেন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট বলা হয়, তার আরেকটি প্রমাণও মিলল। তরুণ-তুর্কি সাব্বিরকে নিয়ে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন সাকিব। এই দুই ব্যাটসম্যান পাকিস্তানের বোলারদের পাড়ার বোলারদের মতো পিটিয়েছেন। সাব্বির  ৩২ বলে ৫১ রানে এবং সাকিব ৪১ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন।  

 

সাকিবের ইনিংসে ৯টি চার হলেও ছিল না কোনো ওভার বাউন্ডারি। অন্যদিকে ৭টি চারের পাশাপাশি ১টি ছয় হাঁকান সাব্বির।

 

এর আগে টসে জিতে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে সফরকারী পাকিস্তান। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের ওপেনাররা বেশি ভালো করতে পারেননি। দুটি ম্যাচে অর্ধশত রানের জুটি থাকলেও বোলারদের দাপটে অনেকটা নাজুক ছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে সিরিজে ভালো করতে না পারায় টি-টোয়েন্টি খেলার জন্য উড়িয়ে নিয়ে আসা হয় স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ। কিন্তু ডানহাতি ওপেনার আহমেদ শেহজাদও ব্যর্থ।

 

 

তাসকিনের বলে ১৭ রানে আউট হলেও রানের খাতা খুলতে ১১ বল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাকে। বাংলাদেশের তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বল খেলতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। মুস্তাফিজের করা পরপর নয় বলে কোনো রান নিতে পারেনি শেহজাদ। বেশ কয়েকটি বল উইকেটের পেছনে যায় যেগুলো কয়েক ইঞ্চির জন্য ব্যাট মিস করে।

 

তবে উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বেশি দূর যেতে হয়নি বাংলাদেশকে। নবম ওভারের শেষ বলে তাসকিনের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে লং অফে মাশরাফির অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন। স্কোরবোর্ডে রান না থাকায় নিজেকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন আফ্রিদি। মিরপুরে ঝড় তুলে বাংলাদেশকে রানের চাপে ফেলার ইচ্ছে ছিল আফ্রিদির। কিন্তু  তরুণ পেসার মুস্তাফিজ সেই ইচ্ছে পূরণ করতে দেয়নি। মাত্র ১২ রানে আফ্রিদি সাজঘরে ফেরেন ১৯ বছর বয়সি মুস্তাফিজের বলে। ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে মুস্তাফিজের স্লোয়ারে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান আফ্রিদি। কিন্তু এক বল পরই ছক্কার বদলা নিয়ে নেন মুস্তাফিজ। আরেকটি স্লোয়ারে উইকেটে পেছনে ক্যাচ দেন পাকিস্তানের অধিনায়ক।

 

অনেকটা হতাশ হয়ে রিভিউয়ের আবেদনের ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তানের দলপতির হয়তো জানা নেই, টি-টোয়েন্টিতে কোনো রিভিউ নেই! এক প্রান্তে পাকিস্তান উইকেট হারালেও অন্য প্রান্তে মুক্তার আহমেদ নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কিন্তু সানীর দ্বিতীয় স্পেলে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি মুক্তার। ৩০ বলে ৩৭ রান করে মুশফিকের অসাধারণ স্ট্যাম্পিংয়ে সাজঘরে ফেরেন মুক্তার। যদিও ১২ রানে মুশফিকের হাত ধরেই জীবন পান মুক্তার।

 

দ্রুত উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে পাকিস্তান। হারিস সোহেল ও মোহাম্মদ হাফিজ চতুর্থ উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৯ রান যোগ করেন। ২৬ রানে মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে হাফিজ ফিরে গেলেও হারিস সোহেল ৩০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নেন মুস্তাফিজ। ২০ রানের খরচে ২ উইকেট নিয়ে সব আলো কেড়ে নেন মুস্তাফিজ। এভাবেই হোক তরুণ পেসারের পথচলা- এমনটাই কামনা।   

 

 

Comments

comments

Menu

Koreabashi