এশিয়ার অন্যতম সুউচ্চ মসজিদ মিনার ‘চরফ্যাশন টাওয়ার’

0

tower-1

 

ভোলার দক্ষিণপ্রান্ত বঙ্গোপসাগর উপকূল ঘেঁষা চরফ্যাশন উপজেলা পর্যটনে অপার সম্ভাবনাময়। ছোট ছোট দ্বীপ, সবুজ অরণ্য, পাখপাখালি শোভিত চরাঞ্চল সমৃদ্ধ এ উপজেলায় রয়েছে ভ্রমণে আনন্দ কুড়াবার প্রাচুর্য। এবার এ উপজেলার নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিতে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুউচ্চ মসজিদ মিনার। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘চরফ্যাশন টাওয়ার’।

 

উপমহাদেশের মধ্যে অদ্বিতীয় এই মিনারটির উচ্চতা ২১৫ ফুট। চরফ্যাশন শহরের খাসমহল মসজিদের পাশে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ তলাবিশিষ্ট ওই দৃষ্টিনন্দন মিনারটি তৈরি হচ্ছে। মিনারটি গড়ে উঠছে স্থানীয় সাংসদ পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের পৃষ্ঠপোষকতায়।

 

বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা চরাঞ্চল বিশেষ করে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা এখন পর্যটনশিল্পে ব্যাপক সম্ভাবনাময়। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছে ওই অঞ্চলকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতেই নির্মিত হচ্ছে এই দৃষ্টিনন্দন মিনার। এ মিনারে দাঁড়িয়ে বঙ্গোপসাগর মোহনায় জেগে ওঠা  দ্বীপগুলোর নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

 

স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী বাদল দেবনাথ জানান, ওই মিনারকে কেন্দ্র করে চারপাশে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বেড়ে গেছে বেচাকেনা। এলাকার জমির দামও বাড়ছে। দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে চরফ্যাশনের আর্থসামাজিক চিত্র।

 

চরফ্যাশন পৌরসভার প্যানেল মেয়র এস এম মোরশেদ জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে চরফ্যাশন পৌরসভা খাসমহল মসজিদসংলগ্ন মিনার নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। মিনারটির ডিজাইনার হচ্ছেন বিশিষ্ট স্থপতি কামরুজ্জামান লিটন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর কাজ শুরু হয়। এ বছরই এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।

 

সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ৭৫ ফুট মাটির নিচ থেকে ৭০টি পাথর ঢালাই পাইলের ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত টাওয়ারটি সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ওই টাওয়ারের চূড়ায় ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি থাকবে ১৬ জন ধারণক্ষমতার অত্যাধুনিক ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ারের চারদিকে অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫ মিলি ব্যাসের স্বচ্ছ গ্লাস থাকবে। এক হাজার বর্গফুটের ১৭তম তলায় থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা। একসঙ্গে ২০০ পর্যটক সেখান থেকেই শক্তিশালী বাইনোকুলারের সাহায্যে কুকরি-মুকরি, তারুয়া দ্বীপসহ চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত দেখতে পাবেন। থাকবে বিশ্রাম, প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবারের সুব্যবস্থা।

 

তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় রয়েছে এশিয়ার সর্বোচ্চ টাওয়ার, যার উচ্চতা ২০০ ফুট। চরফ্যাশনের মিনারটির মূল টাওয়ারের উচ্চতা ১৮৫ ফুট। এর ওপর রয়েছে ৩০ ফুট দীর্ঘ একটি সুদৃশ্য ফলক। মূল টাওয়ার ১৮৫ ফুট হওয়ায় এটিকে দ্বিতীয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।

 

ঢাকার কারওয়ান বাজারের হাসনা টাওয়ারের ‘আর্কিটেক্ট ফোরাম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই  প্রকল্পের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

 

চরফ্যাশন উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, ভোলা-৪ আসনের সাংসদ বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে চরফ্যাশন ও মনপুরাকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করে তুলতে চান। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কুকরি-মুকরি, ঢালচরসহ আশপাশের বনাঞ্চলে ইকোপার্ক গড়ে তুলছেন। সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পর্যটকদের জন্য অত্যাধুনিক বিলাসবহুল রেস্টহাউজ করা হচ্ছে।

 

Comments

comments

Menu

Koreabashi