একাত্তরে বয়স ১৫ না হলে মুক্তিযোদ্ধা নয়!

0
মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে ১৯৭১ সালে বয়স ন্যূনতম ১৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে যেসব নারী মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সম্ভ্রম হারিয়েছেন সেই বীরাঙ্গনারা নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং যাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত করতে সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণসংক্রান্ত উপকমিটি এসব প্রস্তাব দিয়েছে। কারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন তার মানদণ্ড নির্ধারণের জন্য ১১টি বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জামুকা সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, সোমবার জামুকার ২৫তম সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। জামুকার ২৩তম বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য একটি উপকমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। এই উপকমিটি পর পর চারটি সভা করে তাদের প্রস্তাব তৈরি করেছে।জামুকার ওই উপকমিটির আহ্বায়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যেসব প্রস্তাব এসেছে সেগুলো সমন্বয় করে তাঁরা একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন। জামুকার সভায় আলোচনার ভিত্তিতেই তা চূড়ান্ত হবে। এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধকালে ন্যূনতম কত বছর বয়স হলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে সে বিষয়টি কখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে অনেকেই কিশোর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করছেন। এই জটিলতা এড়ানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধকালে যাঁদের বয়স ন্যূনতম ১৫ বছর ছিল তাঁদেরই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতিদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বীরাঙ্গনাদেরও এর আগে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এবার নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় পর্যায়ের সংগঠক যাঁরা সংগ্রাম কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত করেছিলেন তাঁরাও এত দিন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতেন না। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, ১৩-১৪ বছর বয়সেও অনেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এই বয়সসীমা নির্ধারণ করা হলে সেই কিশোর মুক্তিযোদ্ধারা স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হবেন।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আরো যাঁদের কথা বলা হয়েছে তাঁরা হলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ট্রেনিং ক্যাম্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন; মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন; কাদেরিয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী, আনসার বাহিনীর মতো বিভিন্ন মুক্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন; প্রথমে ভারতের ত্রাণশিবিরে অবস্থান করলেও পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন; পুলিশ, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন; মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অথবা মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত গণপরিষদের সদস্য; মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহ দিতে শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড়, চিকিৎসক, লেখক, সাংবাদিক হিসেবে বা বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অবদান রেখেছেন। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের পরই উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হবে বলে জানা গেছে। সোমবারের সভায় যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

Comments

comments

Menu

Koreabashi